ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরুর পূর্বে যে ৮টি বিষয়ে জানা উচিত

অনলাইনের এই যুগে ফ্রিল্যান্সিং এখন অনেক জনপ্রিয় একটি পেশা হয়ে দাড়িয়েছে. যেখানে ছোট থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ সকলেই এই পেশায় দিনকে দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে।  

সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৪০ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার কেবলমাত্র কর্মক্ষেত্রে স্বাধীনতা এবং নিজেদের ব্যক্তিগত উন্নতির লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নির্বাদিত করেছেন, যদিও ৭% ফ্রিল্যান্সার অর্থনৈতিক কারনে এই পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন। এবং ৫৫ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার ফুল-টাইম এই ফ্রিল্যান্সিং পেশার সাথে নিযুক্ত। 

অনেকেই না জেনে, না বুঝে এই ফ্রিল্যান্সিং পেশা হিসেবে গ্রহন করেন যার ফলশ্রুতিতে অনেককে নানা ঝুক্কি ঝামেলা আর হতাশায় পড়তে হয়। যেখান থেকে বেরিয়ে আশা আসলেই খুব বেশি চ্যালেঞ্জিং। সেই সকল সমস্যায় যাতে আপনাকে পড়তে না হয় সেজন্য আজ আমরা আলোচনা করবো এমন ৭টি বিষয় যা আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গঠনের পূর্বে অবশ্যই জানতে হবে। 

#১. সময় সাপেক্ষ ব্যাপার 

রাতারাতি সফলতা অর্জনের গল্প খুব কমই আছে, যারা ফ্রিল্যান্সিংকে নিজেদের পেশা হিসেবে নির্বাচন করেছেন। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের একটি ক্লায়েন্ট বেইজ তৈরি করা। এই ক্লায়েন্ট বেইজ তৈরি একদিনে সম্ভব হয়। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। সেই সাথে প্রতিটি পদক্ষেপ ঠান্ডা মাথায় খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।

#২. অসামাঞ্জস্যপূর্ণ কর্মপ্রবাহ

৯টা-৫টা চাকুরি জীবন থেকে নিস্তার বা রেহাই পেতে অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে বেছে নেয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের সাথে সাথে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়। তার মধ্যে একটি হচ্ছে ওয়ার্ক লোড। এই ওয়ার্ক লোড নির্ভর করে অনেকটা আপনি যে পরিসেবা দিচ্ছেন তার উপর ভিত্তি করে। এমন অনেক সময় যাবে যখন আপনি অনেক কর্ম ব্যস্ত সপ্তাহ পার করবেন আবার এমন অনেক সপ্তাহ পাবেন যেখানে আপনার কাজ থাকবেই না। কোন ক্লায়েণ্টের সাথে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করতে পারেন আবার অনেক সময় কিছু কাজ করিয়ে ক্লায়েন্ট নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারে। এর উপর আপনার আয় অনেকাংশে নির্ভর করে।  

#৩.কাঠামো গঠন 

সুগঠিত কাঠামো ছাড়া একজন ফ্রিল্যান্সারের জীবনে সফলতা অর্জন সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং। যদিও ধরা বাধা সময় থেকে মুক্ত হতে যে কেউ ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে নির্বাচন করে তবু প্রতিদিন সময় অসময়ে আপনাকে অনেক বেশি প্রডাকটিভ থাকতে হবে। যা আপনার ক্যারিয়ারকে আরো দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। 

আপনি যখন নিজের জন্য একটা প্ল্যান তৈরি করবেন তখন আপনাকে স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করতে হবে। আপনার সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈ-মাসিক, বার্ষিক প্ল্যান তৈরি করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। 

এরপর সেই লক্ষ্যগুলি অর্জনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের মাধ্যমে দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। সেক্ষেত্রে ডিজিটাল ক্যালেন্ডার হতে পারে আপনার জন্য সহায়ক। পরিকল্পনা অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করুন। একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার ধারাবাহিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য বাজারের কিছু ডিজিটাল ট্যুল ব্যাপক জনপ্রিয় যার সাহায্য আপনি আপনার অর্থ ব্যবস্থাপনা, পেশাগত উন্নতি নিশ্চিত করতে পারবেন। 

#৪. নিজেকে বিক্রয়ের দক্ষতা

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে নিজের সেবা এবং দক্ষতা ক্লায়েন্ট বা বায়ারের নিকট সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে হয়। এর মাধ্যমে নিজের দক্ষতা এবং যোগ্যতা বিক্রির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয়। 

আপনি আরো সুন্দর করে কিভাবে ক্লায়েন্টের সামনে উপস্থাপন করতে হবে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন কৌশল আপনাকে রপ্ত করতে হবে। যেমন ধরুন আপনি টেকনিক্যাল রাইটিং দক্ষ এবং পারদর্শি এবং আপনার পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে সেগুলো আরো সুন্দর করে কিভাবে ফুটিয়ে তোলা যায় এই নিয়ে আপনাকে কাজ করতে হবে। 

সেকারণে আপনার কাজের পোর্টফোলিও কে রেগুলার আপডেট করতে হবে এবং সেগুলো আপনার সেবা বিক্রির বৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। 

#৫. “সবাই আপনাকে বুঝবে”- এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে 

যদিও ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যদিও এই দৃশ্য বাংলাদেশে এখনও মোটামুটি নতুন। সহকর্মী, পরিবারের সদস্য, ভবিষ্যত নিয়োগকর্তা এবং এমনকি সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট যারা আপনার কাজের সাথে পরিচিত নাও হতে পারে তাদের কাছে আপনার ফ্রিল্যান্সিং পেশা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য ব্যাখ্যা করুন। 

#৬. নিজের পাইপ লাইন প্রস্তুত করুন

আপনি আপনার ফ্রিল্যান্স পরিষেবাগুলি চালু করার আগে, আপনি আপনার সমস্ত পাইপলাইন এবং প্রক্রিয়াগুলি প্রস্তুত করে নিন। হতে পারে আপনার ক্লায়েন্টদের তথ্য সংগ্রহ করতে হতে পারে যা আপনাকে চুক্তি তৈরি করতে সাহায্য করবে। আপনার প্রক্রিয়ার মধ্যে যে পদক্ষেপগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, সেগুলিকে আগে থেকেই প্রস্তুত করুন যাতে কোনও বাধা সম্মুখীন না হোন এবং আপনার ক্লায়েন্টদের একটি ভালো অভিজ্ঞতা দিতে পারবেন।

#৭. প্রত্যাখান আসবেই

আপনি যখন একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন, তখন আপনি আপনার সেবার যা অফার করবেন সবাই তাতে সম্মতি জ্ঞাপন নাও করতে পারে। অনেক মানুষ তাদের ফ্রিল্যান্সিং  ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় প্রত্যাখ্যানের সম্মুখীন হয়। আপনার পরিসেবাগুলি সবার জন্য উপযুক্ত হবে নাও হতে পারে কিন্তু এর মানে এই নয় যে আপনি যা অফার করছেন তা মূল্যবান এবং সঠিক নয় ৷ সঠিক ক্লায়েন্ট আপনি খুজে পাবেন। 

#৮. ফিডব্যাক গ্রহণ

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে প্রথম থেকে ক্লায়েন্টের ফিডব্যাক গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে? হোক তা ইতিবাচক নতুবা নেতিবাচক। এই ফিডব্যাকগুলো আপনার ক্যারিয়ার আগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

এরপরও যদি মনে হয় ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য উপযুক্ত একটি পেশা তাহলে আপনি নির্দ্ধিধায় একে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারেন। আর যদি মনে না হয় ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য না-তাহলে সিদ্ধান্ত আপনার একান্ত ব্যক্তিগত।

জনপ্রিয় কোর্সসমূহ

সাম্প্রতিক ব্লগসমূহ